শুল্কের হুমকি দিয়ে শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ ট্রিলিয়ন বা ৫ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিপুল এ অর্থ দেশটিতে প্রবেশ করবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দুই গবেষক। প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়া গেলেও কীভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তাদের। খবর এপি।
ট্রাম্পকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত এমন প্রশ্ন তুলে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের গবেষক গ্রেগরি অক্লেয়ার ও আদনান মাজারেই বলছেন, ‘প্রতিশ্রুতিগুলো অস্পষ্টতায় আচ্ছন্ন।’
বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেয়া দেশের তালিকায় রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে এর সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে আরো বড় বিনিয়োগের কথা বলছে হোয়াইট হাউজ, ৯ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। ট্রাম্প এর তুলনায় বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশার কথা বললেও অক্লেয়ার ও মাজারেই বলেন, ‘তার দাবির ভিত্তি স্পষ্ট নয়।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক বেসরকারি বিনিয়োগের গড় পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে সম্মিলিত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) আকার ছিল ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার, এতে কারখানা বা অফিসে বিনিয়োগ থাকলেও পুঁজিবাজার অন্তর্ভুক্ত নয়।
অক্লেয়ার ও মাজারেই লিখেছেন, ‘ট্রাম্পকে দেয়া প্রতিশ্রুতির আকার বড়। কিন্তু দেশগুলোর বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পরিকল্পনা পদ্ধতি আলাদা। প্রতিশ্রুতিগুলো যাচাইয়ের মানদণ্ড অস্পষ্ট। যেমন ইইউর প্রতিশ্রুত ৬০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগে আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।’
গবেষকরা বলছেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে সমস্যায় পড়তে পারে কিছু দেশ। কারণ প্রতিশ্রুতির আকার তাদের আর্থিক সম্পদের তুলনায় বড়। কিছুটা কষ্ট হলেও সৌদি আরব হয়তো লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। তবে ইউএই ও কাতার আরো কঠিন অবস্থায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের জন্য দেশগুলোকে হয়তো ঋণ নিতে হবে। বাধ্যতামূলক না হওয়া অনেক দেশ প্রতিশ্রুতির তুলনায় অনেক কম বিনিয়োগ করতে পারে।
এমন অবস্থায় বাণিজ্য অংশীদাররা প্রতিশ্রুতি এড়ানোর উপায় খুঁজতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক বাতিল করলে তারা অজুহাত পাবে। মাজারেই বলেন, ‘অন্যান্য দেশ হয়তো প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজবে।’
অবশ্য মার্কিন বিচারকরা বর্তমান শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিকল্প শুল্ক প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা সঠিক অর্থনীতির প্রতিফলন হবে কিনা এমন উদ্বেগও জানিয়েছেন পিটারসনের গবেষকরা। কারণ বিপুল বিনিয়োগ কর্মসংস্থান বাড়ালেও শিল্পনীতি সম্পর্কিত উদ্বেগ বাড়াতে পারে।